• <div id="fb-root"></div>
    <script async defer crossorigin="anonymous" src="https://connect.facebook.net/en_GB/sdk.js#xfbml=1&version=v4.0&appId=540142279515364&autoLogAppEvents=1"></script>
  • শিরোনাম

    আমরা প্রবাসীরা প্রত্যেকেই এক এক জন সফর আলি!

    মঈনুদ্দিন খান | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:০০ এএম

    আমরা প্রবাসীরা প্রত্যেকেই এক এক জন সফর আলি!

    সফর আলি কাজ করতে করতে মারা গেলেন সেদিন। প্রবাসে কেউ মারা গেলে প্রবাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে লাশটি অনতিবিলম্বে লাশটি দেশের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে।
    মৃত ব্যক্তিটিকে অধিকাংশেরই চেনা থাকে না৷
    কিন্তু লাশ প্রেরণ করতে নির্দ্ধিধায় প্রায় সকলেই অর্থ দান করেন।
    এটি একটি স্বাভাবিক অনুভূতি।
    আসলে প্রবাসীরা একে অপরের এক অদৃশ্য স্বজন হয়ে ওঠে অন্ততঃ মৃত্যুর পর।

    সফর আলী মারা গেলেন।
    স্বাভাবিকভাবেই তার নিকট-স্বজনদের খোঁজা হলো। প্যারিসে কেউ নেই।
    জানা গেলো, বড়ভাই স্ব—পরিবারে থাকেন লন্ডনে৷
    তার সাথে নাকি যোগাযোগ করা হলো।
    না, তার কাছে তার ভাইয়ের লাশটার সেরকম মূল্য নেই বলে তিনি মনোভাব প্রকাশ করলেন!
    দেশে তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করা হলো, তারাও ‘প্রাণহীন সফরের’ লাশটিকে একটি গুরুত্বহীন বোঝা-ই মনে করলো।
    সফর আলির এলাকার দুজন লোকের মাধ্যমে সফর ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে, সে লাশ গ্রহনের অপ্রয়োজনীয়তার মনোভাবটিই প্রকাশ করে!
    যারা লাশ দেশে প্রেরণ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম্বা আর্থিক সাহায্য দেবেন – তারা এমনতরো আচরণে বিস্মিত হয়েছেন, হয়তো খানিকটা হোঁচটও খেয়েছেন।
    কিন্তু সফর আলির পারিবারিক পরিমন্ডলটি এরকম নয় বলেই সবাই জানতো৷
    লন্ডনে তার বড় ভাইয়ের সাথে নিয়মিতই কথা হতো, যোগাযোগ হতো।
    পরিবারের সাথেও তার খারাপ কোন সম্পর্কের কথা জানা নেই।
    পারিবারিক অবস্থাও মোটামুটি ভাল বলেই জানতো। তাহলে তার মৃত্যুর পর এই পটভূমির বেখাপ্পা অভিঘাত কেন?

    শুনেছি সফর ভাইয়ের পরিবার ৫/৬ লাখ টাকা ঋণি আছেন।
    তার পরিবারটি তার লাশের চেয়েএই ঋণ নিয়ে বেশি চিন্তিত!

    আসলে সকলের কাছে ‘জীবিত সফর আলিদের’ মূল্য’ আছে, ‘মৃত সফর আলিদের’ নয়।
    কেননা জীবিত সফররা রেমিট্যান্স পাঠাবে মাসের পর মাস।
    এর বাইরে কী তাদের আর জীবন আছে ??
    প্রবাসে এই জীবিত সফর আলিরা দিন নেই ,রাত নেই জ্বর ঠান্ডা সহ হাই লেভেলের ডায়াবেটিস নিয়ে, মাইনাস তাপমাত্রার শীত আর পারদের ক্রমশঃ উল্লম্ফনের চামড়া পোড়া গরমে ১০/১৫ ঘন্টা দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাজ করে।
    পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়।
    ব্লাডের সুগার নেমে যায় ভয়ংকরমাত্রায়।
    তবুও সফর আলিদের কাজ থেমে থাকে না৷
    কারন দেশে যে টাকা পাঠাতেই হবে।

    দীর্ঘ ৩/৪ বছরেও সফর আলিদের গায়ে একটি ভাল পোষাক উঠেনা।
    সফর আলিদেরও নিশ্চয়ই সাধ হয়, কিন্তু সাধ্য থাকে না৷
    নিজেকে সাজাতে গেলে যে সংসারে সমস্যা হবে।

    প্রবাসীরা মোমবাতির মত এভাবেই নিজেকে জ্বালিয়ে চারপাশটা আলোকিত করে। অতঃপর নিঃশ্বেষ হয়ে যায়।
    সফর আলিদের লাশ দেশে পাঠাতে সরকার সাহায্যো করে না৷
    পরিবার থাকে ঋনগ্রস্হ৷

    প্রবাসীরা মিলে চাদা উঠায়ে লাশ দেশে পাঠায়৷
    রাষ্ট্রের কাছে লাশটি মূল্যহীন হলেও, সে যে মাটির সন্তান তাদের কাছে এই লাশের গুরুত্ব অনেক।

    প্রবাসী বাংলাদেশী সকলের আর্থিক সহায়তায় সফর আলিদের লাশটি বাংলাদেশে যায়, মায়ের কাছে যায়, সন্তানের কাছে যায়।
    প্রবাসীদের কাছে এটিই একটি ভাল লাগার অনুভূতি।

    আল্লাহ প্রতিটি সফরআলিদের বেহেশত নসীব করুন।

    লেখক: ফ্রান্স প্রবাসী সমাজকর্মী।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গনি’র কীর্তি

    ২০ জুন ২০১৭

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১