• শিরোনাম

    বছর শেষেই বাজারে আনছে সিরাম

    করোনা ভ্যাকসিন মাত্র ২২৫ টাকায়!

    ডেস্ক | শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 126 বার

    করোনা ভ্যাকসিন মাত্র ২২৫ টাকায়!

    মহার্ঘ নয়, বরং সস্তায় মিলবে কোভিড ভ্যাকসিন। সৌজন্যে মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস। প্রান্তিক মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে মারণ ভাইরাস প্রতিরোধী টিকার দর। ভারতে এক একটি ডোজের দাম পড়তে পারে মাত্র ২২৫ টাকা।

    খুব সম্ভবত বছর শেষেই বাজারে এসে যাবে ভ্যাকসিন। সেই মতো উদ্যোগী হয়েছে ভারতীয় টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’। জেনিভার আন্তজার্তিক সংস্থা ‘গাভি’ (গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন) এবং ‘বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে বিশেষ চুক্তিও করে ফেলেছে পুনের এই কোম্পানি। মূলত, বিল গেটসের আর্থিক সহায়তায় এই ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের আয়ত্বের মধ্যে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। সিরামের তরফেও জানানো হয়েছে, গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে গাঁটছড়ার ফলে এক একটি ডোজের দাম হতে পারে তিন মার্কিন ডলার। ভারতীয় টাকার দরে যার মূল্য প্রায় ২২৫ টাকা। সিরামের অন্যতম কর্ণধার আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, ‘করোনাকে জব্দ করার লক্ষ্যে যত দ্রুত এবং কম দামে ভ্যাকসিন বাজারে আনা যায়, সেটাই আমাদের টার্গেট। ‘বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ এবং ‘গাভি’র সঙ্গে চুক্তি এ ব্যাপারে প্রভূত সাহায্য করবে। আশা করি, ২০২১ সালের গোড়ার দিকে ভ্যাকসিন বাজারে এসে যাবে।’

    আইসিএমআরের ডিজি ডাঃ বলরাম ভার্গবও বলেছেন, ‘কম দামে ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারে ভারত বরাবরই উদ্যোগী। এক্ষেত্রে সিরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করছি।’

    মহামারী কেভিডের ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি। ভ্যাকসিন নিয়েও তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছিল। দাম অত্যধিক বেশি হলে দেশগুলির একটা বড় অংশের মানুষের কপালে ভ্যাকসিন জুটবে না। মূলত এই আশঙ্কাই গ্রাস করেছিল ভারত সহ অন্যান্য নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের দেশগুলিতে। কারণ, প্রথমদিকে এক একটি ডোজের দাম প্রায় এক হাজার টাকা হবে বলে জল্পনার বুদবুদ ওঠে। সিরাম ইনস্টিটিউটও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেই দিক দিয়ে বিল গেটসের আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ‘গাভি’র মাধ্যমে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১,১২৫ কোটি টাকারও বেশি) দিচ্ছে বিল গেটসের সংস্থা। ইতিমধ্যেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র তৈরি ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ তৈরিতে চুক্তি করেছে সিরাম। আবার মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘নোভাভ্যাক্সে’র ভ্যাকসিন তৈরিতেও চুক্তিবদ্ধ তারা। ভারতেই তৈরি হবে দু’টি সংস্থারই টিকা। ভারতবাসীর কাছে এটাই বড় সুখবর। ঘর সামলে টিকার বিদেশ-বাণিজ্য হতে পারে বলেও আশায় বুক বাঁধছেন অনেকেই। সিরাম জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ কোটি ডোজ তৈরি করবে তারা। প্রাপ্তির তালিকায় অবশ্যই থাকছে ভারত। এ ছাড়াও ৯২টি দেশে রপ্তানি করা হবে ভ্যাকসিন।

    জানা গিয়েছে, দু’টি ভ্যাকসিনেরই মানবদেহে পরীক্ষা চলছে। দেওয়া হয়েছে দু’টি করে ডোজ। সাফল্যও বেশ ভালোই। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’-এর ‘ফেজ থ্রি’ ট্রায়াল চলছে ব্রাজিলে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভারতেও এই ভ্যাকসিনের ‘ফেজ টু’ ও ‘ফেজ থ্রি’ একসঙ্গে ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। সেই সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়েছে স্পষ্ট গাইডলাইনও। নয়াদিল্লি এবং যোধপুর এইমসের পাশাপাশি মোট ১৭টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শীঘ্রই মানবদেহে পরীক্ষামূলক এই করোনা ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হবে। একইভাবে কেন্দ্রের অনুমতি সাপেক্ষে নোভাভ্যাক্সে’র ভ্যাকসিনও মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে খবর। অস্ট্রেলিয়ায় এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ফেজ ওয়ানের ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক। ভারতেও তার প্রয়োগ ইতিবাচক হবে বলেই মনে করছে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া।

    বাংলাদেশ সময়: ১১:০৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০

    eurobarta24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ