• <div id="fb-root"></div>
    <script async defer crossorigin="anonymous" src="https://connect.facebook.net/en_GB/sdk.js#xfbml=1&version=v4.0&appId=540142279515364&autoLogAppEvents=1"></script>
  • শিরোনাম

    চট্টগ্রামে বড় প্রয়োজন একটি ক্যান্সার হাসপাতাল । হাত বাড়িয়ে দিন গড়ার উদ্যোগে

    হাসান আকবর | ১৬ এপ্রিল ২০১৭ | ১১:৫০ অপরাহ্ণ

    চট্টগ্রামে বড় প্রয়োজন একটি ক্যান্সার হাসপাতাল । হাত বাড়িয়ে দিন গড়ার উদ্যোগে

    ক্যান্সারের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পাশে এই ক্যান্সার ইনস্টিটিউটটি গড়ে তোলা হবে। এই হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় একশ’ কোটি টাকা। তবে প্রাথমিকভাবে ভবন তৈরিসহ চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে অন্তত ৩৫ কোটি টাকার প্রয়োজন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন কোম্পানির সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের একদিনের বেতন-ভাতা দান করা হলে এই টাকার সংস্থান হওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল থেকে এই ইনস্টিটিউটের জন্য অনুদান সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এই ক্যান্সার ইনস্টিটিউট প্রকল্প বাস্তবায়নে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেককে চেয়ারম্যান, বিজিএমইএর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়বকে কো চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ গভর্নিং বডির ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম আজাদকে সদস্য সচিব করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। দৈনিক আজাদী এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মিডিয়া পার্টনারের দায়িত্ব পালন করবে। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারি কোন পর্যায়েই ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নেই বললেই চলে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেমোথেরাপি দেয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল। মাসের পর মাস সিরিয়াল দিয়েও অপারেশন বা কেমোথেরাপি দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। কেমোথেরাপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য মানুষকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্রাইভেট চিকিৎসা নিতে গেলেও সম্মুখীন হতে হয় একই সংকটের। আর সরকারি বা বেসরকারিভাবে রেডিওথেরাপি দেয়া যায় না চট্টগ্রামের কোথাও। ঢাকায়ও সিরিয়াল দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়, এতে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে রোগীর অবস্থা। বিশেষ করে ক্যান্সার চিকিৎসায় চট্টগ্রামের সুযোগ সুবিধা কোনো হিসেবেই পড়ে না বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল বড় প্রয়োজন। তাই এই ক্যান্সার ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগটি মহৎ এবং যথেষ্ট প্রশংসনীয়। মা ও শিশু হাসপাতালের উইং হিসেবেই এই ইনস্টিটিউটটির কার্যক্রম চলবে। ইতোমধ্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষায়িত এই হাসপাতালের জন্য আট কাঠা মূল্যবান ভূমি প্রদান করেছেন। ভূমির সংস্থান হলেও ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে হাসপাতাল চালু করতে একশ’ কোটি টাকার প্রয়োজন। এরমধ্যে ২০ কোটি টাকা খরচ হবে প্রায় ৮০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১৩ তলা একটি ভবন নির্মাণে। ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ১৫ কোটি টাকা খরচ হবে। অর্থাৎ ৩৫ কোটি টাকা হলে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাবে। বাকি ৭৫ কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে খরচ করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। এই ইনস্টিটিউট নির্মাণে গঠিত কমিটির কাছে গতকাল বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক চিটাগং ক্লাব লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব ৫ লক্ষ টাকা এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক সাবেক লায়ন জেলা গভর্ণর আবদুল গাফফার দোভাষের পুত্র লায়ন আল সাদাত দোভাষ ৫ লক্ষ টাকা অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছেন। এ উপলক্ষে দৈনিক আজাদী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সভাপতিত্ব করেন মা ও শিশু হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর এম এ তাহের খান। অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি মহতী উদ্যোগ। চট্টগ্রামবাসী এজন্য আপনাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি বলেন, কোন ভাল কাজের উদ্যোগ কখনো বিফলে যায় না। আপনাদের এই উদ্যোগ অবশ্যই সফল হবে। মানুষ ভাল কাজে টাকা দিতে চায়, সঠিক জায়গায় টাকা দিতে চায়, সহযোগিতা করতে চায়। আমি মনে করি এটি একটি সঠিক জায়গা, যেখানে সহযোগিতার জন্য সকলেই এগিয়ে আসবে। এম এ মালেক আরো বলেন, আপনারা একটি মহৎ কাজ শুরু করে দিয়েছেন, এটি অবশ্যই শেষ হবে। তিনি এ ব্যাপারে দৈনিক আজাদী পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং এধরনের মহৎ কাজে দৈনিক আজাদীকে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়ায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এম এ মালেক অনুদান সংগ্রহের উদ্বোধনী দিনে ৫ লক্ষ টাকা করে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করায় এস এম আবু তৈয়ব ও আল সাদাত দোভাষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অনেক দানশীল ও বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। তারা এগিয়ে আসলে অতি সহজেই এই ক্যান্সার ইনস্টিটিউট স্থাপন সম্ভব হবে। সভায় এস এম আবু তৈয়ব বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট হবেই ইনশা’আল্লাহ। এ ব্যাপারে তিনি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এম এ মালেকের মতো একজন নিবেদিত প্রাণ মানুষ এবং দৈনিক আজাদী যেহেতু এ ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে তাই এক্ষেত্রে প্রচার প্রচারণায় কোন ধরনের অসুবিধা হবে না। চট্টগ্রামবাসী অবশ্যই এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসবে। আল সাদাত দোভাষ বলেন, তার মরহুম বাবা আবদুল গাফফার দোভাষ চট্টগ্রামে ক্যান্সার রোগীদের জন্য একটি ক্যান্সার হাসপাতালের স্বপ্ন দেখেছিলেন। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসায় তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ক্যান্সার ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংবাদটি শুনার সাথে সাথে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার মরহুম পিতা আবদুল গাফফার দোভাষের নামে গঠিত ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমি আশা করি খুব শীঘ্রই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে এই ক্যান্সার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হবে। সভায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার এম আলী আশরাফ প্রস্তাবিত ক্যান্সার হাসপাতালের সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি বলেন, জায়গা নির্ধারণ ও নকশা প্রনয়ণসহ অনেক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা এই ক্যান্সার ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর এম এ তাহের খান, এস এম মোরশেদ হোসেন, জেনারেল সেক্রেটারি ডা. আঞ্জুমান আরা ইসলাম ও মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ। বক্তারা বলেন, মা ও শিশু হাসপাতালের এই ক্যান্সার ইউনিটটি স্থাপিত হলে এখানকার রোগীদের কষ্ট স্বীকার করে আর চট্টগ্রামের বাইরে বা ঢাকায় যেতে হবে না। সভায় আরো জানানো হয় যে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদান সংগ্রহের কার্যক্রম রোববার (গতকাল) শুরু হয়, কিন্তু এর আগে দৈনিক আজাদী এ ব্যাপারে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর ৬৭ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এম মাহফুজুর রহমান, ট্রেজারার ডা. মোহাম্মদ আরিফুল আমীন, মিসেস রেখা আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খায়েজ আহমেদ ভূইয়া, ডা. সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুফ, ডা. মোহাম্মদ পারভেজ ইকবাল শরীফ, এস এম কুতুব উদ্দিন, ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর, হারুন ইউসুফ, আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যক্ষ ড. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্ল্যাহ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর এ এস এম মোস্তাক আহমেদ, হাসপাতালের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ও হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শেফাতুজ্জাহান প্রমুখ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০