• শিরোনাম

    ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেন গ্রুপ

    ডেস্ক | সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 164 বার

    ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেন গ্রুপ

    ফরিদুপর জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ক্রমেই কোনঠাসা হয়ে পড়ছে খন্দকার মোশাররফ হোসেন গ্রুপ।
    সাবেক মন্ত্রীর এপিএস ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক এএইচএম ফোয়াদের নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ২১ সদস্যের এ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো ২০১৮ সালের শুরুর দিকে।
    যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামসের নির্দেশে ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করার কারন হিসেবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুবলীগ একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল দল। সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার কারণে কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।
    এ বিষয়ে আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক স্বপন পাল বলেন, ‘আমরা নিষ্ক্রিয় ছিলাম না। আমরা সব কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করেছি। বর্তমানে আমাদের জাতীয় শোক দিবস ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান ছিল।’ কেন্দ্রীয় কমিটিকে ভুল তথ্য দিয়ে, ভুল বুঝিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ কাজ করিয়ে নিতে পারে বলে তাঁর অভিযোগ।
    এদিকে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের নিশান মাহমুদ শামীমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
    গত ২৬ জুন শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে প্রধান আসামি করে অবৈধ উপায়ে দুই হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সেসময় এর সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করেন তারা।
    রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি ও তথ্যানুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এই মামলায় আরও গ্রেফতার হয়েছে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন।
    একাধিক সুত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার অভিযোগের পরই আওয়ামী লীগের খন্দকার মোশাররফ গ্রুপের নেতৃস্থানীয়দের আটক করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগে।
    সুত্র মতে, গত রমজান মাসে সাবেক মন্ত্রীর দেয়া ইফতার পার্টিতে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুবল সাহা উপস্থিত হননি। এরপর গত ১৬ জুন রাতে শহরের মোল্লাবাড়ি সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সুবল চন্দ্র সাহা গত ১৮ জুন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ৭ জুলাই পুলিশের বিশেষ অভিযানে সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেফতার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরও সাত জন। এর পরে সিআইডি পুলিশ বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেলে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা করে সিআইডি।
    এ ঘটনার পর বরকতকে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রুবেলকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
    আওয়ামী লীগ নেতা সুবল সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনার পর ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার, জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, ছাত্রলীগ সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীম প্রমুখ।

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৪১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২০

    eurobarta24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ