• শিরোনাম

    ফ্রান্সের তৃতীয় প্রজাতন্ত্র এবং কিছু গুরুত্বপুর্ন ঘটনা

    ফারুক নওয়াজ | শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 452 বার

    ফ্রান্সের তৃতীয় প্রজাতন্ত্র এবং কিছু গুরুত্বপুর্ন ঘটনা

    আমরা জানি ফ্রান্স বিশ্বের গনতান্ত্রিক দেশ সমুহের মধ্যে একটি আদর্শ রাষ্ট্র। প্রকৃত অর্থে গনতন্ত্র বলতে যা বোঝা যায় তার অধিকাংশ উপাদানই ফ্রান্স নামক রাষ্ট্রটির রয়েছে। কিন্তু একদিনে এসব অর্জন সম্ভব হয়নি। দীর্ঘপথ পরিক্রমনের পর আজ ফ্রান্স একটি কল্যা্নমুলক আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
    ফ্রান্সের বেশীরভাগ মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে তৃতীয় রিপাবলিকের সময়। অর্থাৎ ফ্রান্সের সব পরিবর্তন তৃতীয় প্রজাতন্ত্রের সময় হয়েছে।
    ইতিহাস থেকে জানা যায় ফ্র্রান্সে ১৮৫২ সালে দ্বিতীয় রিপাবলিকের সমাপ্তির পর দীর্ঘ ২৮ বছর সম্রাটের শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়। এরপর ১৮৭০ সালে সম্রাট লুই নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বা তৃতীয় নেপোলিয়নের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃতীয় রিপাবলিকের পত্তন হয়।
    ১৮৭০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ফরাসী রাজনীতিক ও রিপাবলিকান দলের নেতা Léon Gambetta এর নেতৃত্বে তৃতীয় রিপাবলিকের অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এরপর প্রুশিয়ার সঙ্গে একাধিক যুদ্ধ সংগঠিত হয়। সে সময় ফ্রান্সে একাধিক রাজনৈতিক নেতা স্থায়ী গনতন্ত্রের জন্য প্রচেষ্টা করেছেন।
    ১৮৭২ সালের ২৭ জুলাই ফ্রান্সে সামরিক শিক্ষা পাচ বছরের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। ১৮৭৩ সালের ৭ জানুয়ারী নির্বাসিত সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন মৃত্যুবরন করেন। একই বছর রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দালাল চত্র সক্রিয় হলেও সফল হয়নি।
    ১৮৭৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী লা মার্সেইয়েজ জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়। ১৮৮০ সালের ৬ জুলাই সর্বসম্মতিক্রমে ১৪ জুলাইকে জাতীয় উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
    ১৮৮১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী নারীবাদি পত্রিকা La Citoyenne প্রকাশের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা Liberté de presse স্বীকৃতি লাভ করে।
    ১৮৮২ সালের ২৮ মার্চ শিক্ষা ব্যবস্থা অবৈতনিক, বাধ্যতামূলক ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি চালু করেন। তৎকালীন মন্ত্রীসভার প্রধান জুলস ফেরী এটি করেছিলেন। ১৮৮৫ সালের ৩০ মার্চ জুলস ফেরী পদত্যাগ করেন।
    ১৮৮৪ সালের ২১ মার্চ ফ্রান্সে শ্রমিক সংগঠন করার অধিকার স্বীকৃত হয়।
    ১৯০১ সালের ১ জুলাই সংগঠন করার আইন প্রবর্তন করা হয়। যেটা বহুল পরিচিত la loi sur les associations 1901.
    ১৯০৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ফ্রান্সকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় সাংবিধানিকভাবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র নিরপেক্ষ এবং কোন ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা না করার বিধান গৃহীত হয়।
    ১৯৩৬ সালের ১১ ও ১২ জুন দুই সপ্তাহ স্ববেতনে ছুটি এবং সাপ্তাহিক ৪০ ঘন্টা পর্যন্ত কাজের বিষয় গৃহীত হয়। এর আগে ফ্রান্সে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ইচ্ছামতো কাজ করাতো। তাদের কোন ছুটি ছিলো না। সপ্তাহে কতোঘন্টা কাজ করতে হবে তা নির্দিষ্ট করা হয় ১৯৩৬ সালে। সে সময় ফ্রান্সে সমাজবাদী রাজনৈতিক নেতা Léon Blum এর নেতৃত্বে সমাজবাদী রাজনৈতিক জোট Front Populaire সরকার গঠন করেছিলো। এ কারনেই শ্রমবান্ধব নীতি ও আইন প্রনয়ন করা হয়েছিলো।
    প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে ফ্রান্সে সরকার ব্যবস্থায় যদি পড়লেও ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাজী সমর্থিত রাজাকার সরকার গঠন করা হয় সেনা বাহিনীর মার্শাল Philippe Pétain এর নেতৃত্বে। ১৯৪০ সালের ১৬ জুন এ সরকার গঠনের পর ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় রিপাবলিকের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ফ্রান্সে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে মঙক্ত অংশে এবং জার্মান অধিকৃত অংশে সরকার পরিচালনা করে মার্শাল ফিলিপ পেতাঁ।
    মুলত ফ্রান্সের গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার পিছনে তৃতীয় রিপাবলিকের অবদান অনস্বীকার্য।

    বাংলাদেশ সময়: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২০

    eurobarta24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ