• শিরোনাম

    করোনায় বেকার হচ্ছে ভারতের কাটোয়ার বহুরুপীরা

    বিলুপ্তির পথে বাংলার প্রাচীন লোকশিল্প

    ডেস্ক | সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 152 বার

    বিলুপ্তির পথে বাংলার প্রাচীন লোকশিল্প

    ‘বাবুমশায় আমি বাঘ-ভালুক নই। আমি ছিনাথ বহুরূপী’। শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত উপন্যাসের সেই বহুরূপীর কথা অনেকেরই জানা। বাংলা সাহিত্যের বাইরেও চলচ্চিত্র জগতে সত্যজিৎ রায় বা ঋত্বিক ঘটকের ফ্রেমে অন্য মাত্রা পেয়েছে বহুরূপী।

    সত্যজিৎ পরিচালিত ‘কাপুরুষ মহাপুরুষ’ ছবিতে রবি ঘোষের কালী সাজ সমাজের কুসংস্কারের ভণ্ডতাকে প্রকট করে তোলে। আবার ঋত্বিক ঘটক তাঁর সুবর্ণরেখা ছবিতে বহুরূপী চরিত্রের মাধ্যমে দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যার ছবি তুলে ধরেছেন। কখনও শিব, কখনও কালী বা নানান পৌরানিক চরিত্রকে মুখে রং মেখে ফুটিয়ে তোলেন বহুরূপীরা। তবে, গ্রামের মেঠো পথ অথবা গৃহস্থের বাড়িই তাঁদের অভিনয়ের মঞ্চ।

    বিনিময়ে এক মুঠো চাল, ডাল অথবা মেলে সামান্য কিছু পারিশ্রমিক। সময়ের সঙ্গে বহুরূপীর সংখ্যা কমলেও একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি বাংলার এই প্রাচীন লোকশিল্প। কিন্তু, করোনা পরিস্থিতিতে এই পেশা টিকিয়ে রাখা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তাই পেশা বদলের দিকেই ঝুঁকেছেন কাটোয়ার বহুরূপীরা।

    কাটোয়ার-১ ব্লকের আখড়া বহুরূপী গ্রাম বলেই পরিচিত। সেখানকার অধিকাংশ মানুষই প্রাচীন এই লোকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন সকালে মুখে বাহারি রং মেখে সাজেন বিভিন্ন চরিত্রে। তারপর শহর থেকে গ্রামে ঘুরে মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তাঁদের কাজ। বিনিময়ে সামান্য কিছু সাহায্য পেয়ে কোনওরকমে সংসার চালান। তবুও পূর্বপুরুষের হাত ধরে শেখা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁরা।

    কিন্তু, করোনা মহামারীর জেরে বহুরূপীদের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। তাঁরা কেউ রাস্তায় বের হতে পারছেন না। ফলে এই পেশা টিকিয়ে রাখা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পেটের টানে বাধ্য হয়ে অনেকে শ্রমিকের কাজে কাস্তে নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, কেউ অন্য কোনও পেশায় ঝুঁকছেন।

    জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম ঘোষাল বলেন, প্রাচীন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা সচেষ্ট আছি। ওঁদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয় তা দেখব। আখড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী সচীন রায়, ছোটন রায়, মিঠুন রায় বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে লকডাউন চলছে। রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। ট্রেনও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি কোনও গ্রামে গেলেও সংক্রমণের ভয়ে কেউ গৃহস্থে ঢুকতে দিচ্ছে না। তাই শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাঠে দিনমজুরি করছি।

    আখড়া গ্রামে শচীন রায়ের হাত ধরে অনেকে এই পেশায় এসেছেন। প্রবীণ ওই শিল্পী বলেন, আর বহুরূপী শিল্পকে বাঁচাতে পারব না। করোনার জন্য বাংলা থেকে উৎসবই হারিয়ে যেতে বসেছে। রাজ্য সরকার আমাদের হাজার টাকা করে ভাতা দেয়। রেশনের চাল পেয়ে কোনওরকমে দিন গুজরান করছি। অভিনয়ের মাধ্যমে ছোটদের আমরা আনন্দ দিই। তা দেখে অনেকে সামান্য কিছু সাহায্য করেন। তবে, অনেক গঞ্জনাও সহ্য করতে হয়। কিন্তু কষ্ট করে হলেও পূর্বপুরুষের পেশাকে টিকিয়ে রেখেছিলাম। করোনা সেটুকুও শেষ করে দিল।

    বাংলাদেশ সময়: ২:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

    eurobarta24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ