• শিরোনাম

    ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফর নেপথ্যে বন্দী বিনিময়

    ডেস্ক | রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 270 বার

    ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফর নেপথ্যে বন্দী বিনিময়

    ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার আকস্মিক বাংলাদেশ সফরের নেপথ্যে জাল নোট পাচারের মামলায় আটক বাংলাদেশী নাগরিক মোজাম্মেল হককে বিচারের জন্য ভারতের কাছে হস্তান্তরের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।
    একাধিক কুটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে এবং দাউদ ইব্রাহিম কাসকরের ‘ডি’ কোম্পানির পরিচালনায় ভারতীয় জাল নোট কারবারে যুক্ত বাংলাদেশী নাগরিক মোজাম্মেল হককে নিজেদের হেফাজতে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।
    সুত্রমতে, জাল নোট পাচারের একটি মামলায় বাংলাদেশের নাগরিক মোজাম্মেলকে হাতে পেতে হাসিনা সরকারের কাছে দরবারও করা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তরফে। বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলার সীমান্ত দিয়ে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে জাল নোট পাচারের আন্তর্জাতিক ওই চক্রের বাংলাদেশি সদস্যটির নাম মোজাম্মেল হক। এই মোজ্জামেলের মাধ্যমেই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হতো ভারতীয় জাল নোট।
    এ বিষয়ে এনআইএ’র বিশেষ সহকারি কৌঁসুলি দেবাশীষ মল্লিক চৌধুরি বলেন, দু’দেশের মধ্যে সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওই বাংলাদেশিকে এনআইএ হেফাজতে পাওয়াটাই এখন আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাকে হাতে পাওয়া মাত্রই আমরা শুরু করতে চাই, কলকাতা নগর দায়রা আদালতের এনআইএ’র বিশেষ কোর্টে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
    ওই আইনজীবী বলেন, তাকে হাতে পেলে এ রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তে জালনোট পাচার সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক অজানা তথ্য হাতে উঠে আসতে পারে। তাই তাকে হেফাজতে পাওয়াটা এখন একান্ত জরুরি।
    এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তার জেরে মোজাম্মেলকে হেফাজতে পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
    ভারতীয় আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে মুর্শিদাবাদে এক জালনোটের মামলার তদন্ত করছিল এনআইএ। সেই মামলার তদন্ত চলাকালীনই মুর্শিদাবাদের ডাকবাংলোর কাছে ১০ লক্ষ টাকা পাচার করতে গিয়ে এনআইএ’র জালে ধরা পড়ে রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি। তাকে জেরা করে ওই তদন্তকারী সংস্থা পরবর্তী সময় একে একে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে।
    তাদের জেরা করে এনআইএ’র আধিকারিকরা জানতে পারেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মোজাম্মেল হক নামে এক বাংলাদেশি। যে জালনোট চক্রের মূল হোতা।
    প্রাথমিক তদন্তে এনআইএ জানতে পারে, মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে মালদহ-মুর্শিদাবাদ সীমান্তের দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জালনোট পাচারের কাজে লাগাত। কিন্তু হন্যে হয়ে খুঁজেও তাকে পায়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পরে জানা যায়, মালদহের কালিয়াচক-বৈষ্ণবনগর লাগোয়া চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় জাল নোটের ‘স্ট্যাক ইয়ার্ড’ খুলে বসেছিল মোজাম্মেল ও তার শাগরেদরা।
    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে ভারতীয় নোট জাল কারবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের নোট জাল করার একটি মামলা চলছে। তাতেই সে এখন জেলবন্দি। এরপরই ওই অভিযুক্তকে ‘ফেরার’ দেখিয়ে বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদের ওই জালনোটের মামলায় এনআইএ চার্জশিট পেশ করেছিল।
    ওই তদন্তকারী সংস্থার এক অফিসার বলেন, মোজাম্মেল হক নামে ওই অভিযুক্তকে হাতে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ফের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হবে। এরপরই চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শেষ করে শুরু হবে মামলার শুনানি।
    জানা গেছে, মোজাম্মেল ছাড়া বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। সকলেই এনআইএ’র বিশেষ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে।
    প্রসঙ্গত, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্সবর্ধন শ্রিংলা গত ১৮ আগস্ট এক ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে আসেন। তিনি পরদিন ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ সফরকালে হর্ষবর্ধন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

    বাংলাদেশ সময়: ১:২৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২০

    eurobarta24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ