• <div id="fb-root"></div>
    <script async defer crossorigin="anonymous" src="https://connect.facebook.net/en_GB/sdk.js#xfbml=1&version=v4.0&appId=540142279515364&autoLogAppEvents=1"></script>
  • শিরোনাম

    ভিসিআর যুগের অবসান! এ মাসেই শেষ ভিসিআরটি বানাচ্ছে ফুনাই

    ডেস্ক | ২৩ জুলাই ২০১৬ | ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

    খবরটা শোনার পর প্রথমেই যেটা প্রায় সকলের মনে হয়েছিল, তা হল— বস্তুটা এখনও তাহলে তৈরি হত! অথচ, আশি-নব্বইয়ের দশকে এই ‘বস্ত্তটার’ জন্যই উতলা হত মন৷ যাদের ড্রইংরুমে জিনিসটার দেখা মিলত, বন্ধু-মহলে তাদের কদরই ছিল আলাদা৷ না হলে তো ছিলই পাড়ার ভিডিও লাইব্রেরি৷ ভিসিআরসহ দুটো ক্যাসেট ভাড়া নিলে একটা ক্যাসেট পাওয়া যেত ফ্রি৷

    বস্তুটা ভিডিও ক্যাসেট রেকর্ডার৷ যাকে সবাই চিনত ভিসিআর নামে৷

    জাপানের বিখ্যাত ফুনাই ইলেকট্রিক এর দাবি, এ মাসেই শেষ ভিসিআরটি বানাচ্ছে তারা।এটা জানতে পারার পর ই-মেলের বন্যায় ভেসে গেছে ফুনাইয়ের অ্যাকাউন্ট৷ সবাই জানতে চেয়েছে, শেষের এই ক’দিনে বানানো ভিসিআরগুলো কোথায় পাওয়া যাবে৷ নস্ট্যালজিয়ায় তাই অনেকেই এটি রেখে দিতে চান সংগ্রহে৷

    আশ্চর্যের ব্যাপার , এতদিন পর্যন্ত ভিসিআর তৈরি করেই চলছিল ফুনাই৷ শুধু তাই নয়, গত বছরে নাকি সাড়ে সাত লক্ষ যন্ত্র বেরিয়েছিল সংস্থার কারখানা থেকে৷ সংখ্যাটা এই যুগে চমকে দেওয়ার মতো৷ যদিও আটের দশকে এক সময় সংখ্যাটা ছিল এক কোটি পনেরো লক্ষ৷ ফুনাই দাবি করেছে , আর ভিসিআর বানানো সম্ভব হচ্ছে না৷ কারণ , তারাই আর যন্ত্রাংশ পাচ্ছে না৷

    ছয়ের দশকে সোনির কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় ভিসিআরের ব্যবহার৷ সাতের দশকে ভিসিআর প্রস্ত্ততকারক সংস্থাগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরমে পৌঁছায়৷ জেভিসি , আকাই , ফুনাই — কত সংস্থা তখন৷ জেভিসি-সোনির মধ্যে এ নিয়ে আইনি মামলাও চলেছে বিস্তর অর্থ ব্যয়ে৷সব দেশেই শুরু হয়ে যায় এই হোম ভিডিয়োর বিপ্লব৷ টিভির বাইরে বিনোদনের অন্য উপায় তখন ‘ভিডিও’তে  সিনেমা দেখা৷ কারও জন্মদিনে পাড়ার দোকান থেকে ভাড়া আনা হচ্ছে , তো কোনও ক্ষেত্রে এমনিই বাড়িতে আসছে ভিসিআর৷

    ধীরে ধীরে প্রতিদ্বন্দ্বী বেড়েছে ভিসিআর -এর৷ প্রথমে কেবল টিভি৷ আরও পরে কম্পিউটার , ভিসিডি , ডিভিডির চাপে ক্রমে কোণঠাসা হয়েছে ভিসিআর৷ টরেন্ট, ব্লু রে যখন এসেছে , ততদিনে আইসিইউতে চলে গেছে ভিসিআর৷ টিভির নীচে যে ড্রয়ারে ভিসিআর থাকত , তার চাবিটাও হয়তো হারিয়ে গিয়েছে৷ ভিসিআরের একটাই সান্ত্বনা হতে পারে৷ যে সব যন্ত্র তার ছুটি করে দিয়েছিল , তাদের প্রায় সবাইকেই ‘অন্তিম শয্যায় ’ দেখে যাচ্ছে ভিসিআর৷ স্মার্টফোন যে তাদেরও ছুটি করে দিয়েছে! শেষ হচ্ছে এই নস্ট্যালজিয়া৷

    ফুনাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে মাত্র সাড়ে সাত লাখ ভিসিআর বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আশি ও নব্বইয়ের দশকে ভিসিআরের চাহিদা ছিল ব্যাপক। ওই সময় লাখ লাখ ভিসিআর বিক্রি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশনের গত বছরের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে বড়দিনের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ছিল ভিসিআর, ক্যামকর্ডার আর সিডি-রম কম্পিউটার ড্রাইভার।

    জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠানগুলো ভিসিআরে প্রোগ্রাম করা কঠিন হলেও আগে থেকে রেকর্ড করা টেপ চালানো বেশ সোজা ছিল। এক দশক আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৭৫ সালে ভিসিআর বাজারে আসার পর থেকে এর দাম চার অঙ্কের কোঠা থেকে ২০০ ডলারে নেমে আসে। ফিল্ম স্টুডিওগুলো ২০০৬ সালে ভিসিআরের জন্য টেপ তৈরি করা বন্ধ করে দেয়।

    বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩৩ বছর ধরে ভিসিআর তৈরি করছে ফুনাই। সত্তরের দশকে বাজারে আসার পর বর্তমান ডিভিডি প্রযুক্তির কল্যাণে এর চাহিদা শেষ হয়ে গেছে। গত বছরে বেটাম্যাক্স ভিডিও ক্যাসেট বিক্রি বন্ধ করে দেয় জাপানের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা সনি। এ টেপ চালাতে ভিসিআর লাগে।

    তবে ভিসিআরের জন্য বেশি মানুষের আফসোস থাকবে না বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। যাঁরা আর্কাইভ হিসেবে কাজে লাগাতে চান, তাঁরা বাদে ভিসিআরের বিদায়ে কষ্ট পাবেন না আর কেউ।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০