• <div id="fb-root"></div>
    <script async defer crossorigin="anonymous" src="https://connect.facebook.net/en_GB/sdk.js#xfbml=1&version=v4.0&appId=540142279515364&autoLogAppEvents=1"></script>
  • শিরোনাম

    কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকাণ্ডের কারণে চিকিৎসা সেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে

    ভুল ঢাকতে হাসপাতালে ধর্মঘট ডাকা অন্যায়-হাই কোর্ট

    ইউরোবার্তা২৪ ডেস্ক | ১০ জুলাই ২০১৮ | ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ

    ভুল ঢাকতে হাসপাতালে ধর্মঘট ডাকা অন্যায়-হাই কোর্ট

    চুয়াডাঙ্গায় ভুল চিকিৎসা নিয়ে একটি রিট আবেদনের শুনানিতে চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখার প্রসঙ্গ ধরে হাই কোর্ট বলেছে, ‘চিকিৎসকদের হরতাল ডাকা অন্যায়। তারা দেবতা নন। ভুল হবে সেটা স্বাভাবিক। ভুলটা অন্যায় নয়। কিন্তু ভুলটা জাস্টিফায়েড করার জন্য হরতাল ডাকা হলে সেটা অন্যায়।’ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এসব মন্তব্য করেন।

    এরআগে ম্যাক্স হাসপাতালে অবহেলার কারণে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এর মধ্যে রোববার ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পেলে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। এরপর চট্টগ্রামের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ধর্মঘট ডাকা হলে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। ২০ ঘণ্টা পর গতকাল সোমবার সেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। চুয়াডাঙ্গায় সংঘটিত ভুল চিকিৎসার ঘটনায় গতকাল হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের উপর শুনানি করতে গিয়ে ম্যাক্স হাসপাতালে শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনা এবং চট্টগ্রামের ডাক্তারদের ধর্মঘট প্রসঙ্গটি ওঠে আসে।

    চুয়াডাঙ্গার ওই ঘটনায় হাইকোর্ট মন্তব্য করে বলেছেন, কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকাণ্ডের কারণে চিকিৎসা সেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। দেশে অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং ভালো মানের চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভুল চিকিৎসার ভয়ে রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই আদালত এ ধরনের পরিস্থিতি কমিয়ে আনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদকে নির্দেশনা দেন।

    আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। তার সঙ্গে ছিলেন সুভাষ চন্দ্র দাস। অন্যদিকে, ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমিনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

    এর আগে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে আয়োজিত চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু সেই রুলের কোনও জবাব আদালতে দাখিল না করায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করেন আদালত। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খাইরুল আলম আদালতে হাজির হন।

    শুনানির শুরুতে আদালতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ খাইরুল আলম রুলের বিষয়ে তাদের লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। তখন আদালত বলেন, ‘লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সময় পাবেন। যেহেতু (স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন) দু’জনই আছেন,তাই আপনাদের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে শুনবো।’ এরপর আদালত সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চক্ষু শিবির করার আগে আপনার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা?’ জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, না, নেয়নি।

    এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য শুনতে চান আদালত। শুরুতে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর আবুল কালাম আজাদকে দেখিয়ে আদালত বলেন, ‘চট্টগ্রামে যা (চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল–ক্লিনিক মালিকরা চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণা) হয়েছে, সেটি দুঃখজনক। আজকের (৯ জুলাই) মামলার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত নয়। যেহেতু আপনি (স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক) আছেন তাই বলছি, মানুষ বিপদে পড়লে তিন পেশার লোকের কাছে যায়– পুলিশ,আইনজীবী এবং ডাক্তার। তিনটি পেশা যদি কিছু কিছু দুর্বৃত্তের কারণে ধ্বংস হয়, তবে মানুষ বিপদে পড়বে। মেয়েটাকে (চট্টগ্রামের রাফিদা খান রাইফা) তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। চট্টগ্রামের হাসপাতাল মালিকদের ধর্মঘটের প্রসঙ্গ টেনে আদালত আরো বলে,ডাক্তাররা দেবতা নন। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমাদেরও ভুল হয়। আমাদের ভুল সংশোধনের জন্য সর্বোচ্চ আদালত আছে। কিন্তু ডাক্তাররা ভুল করলে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে, তার প্রতিবাদ হিসেবে হরতাল ডাকা অনৈতিক।

    এরপর প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ আদালতকে বলেন, ‘আমরা মহামান্য আদালতের সঙ্গে একমত। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ চুয়াডাঙ্গায় ২০ জনের চোখ নষ্ট হওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ওইখানে যে অপারেশন থিয়েটার ছিল, সেটি সঠিক ছিল। যিনি অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ছিলেন, তিনি ৭০ হাজার চোখ অস্ত্রোপচার করেছেন। সুতরাং অস্ত্রোপচারে তার দক্ষতা রয়েছে। ওষুধে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, এটা জানার জন্য তদন্ত কমিটি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছেন। কিন্তু সেই ওষুধের কোনো ত্রুটি সরকারের তদন্ত কমিটি পায়নি। কিন্তু আইসিডিডিআরবি ওষুধের কালচার করে তাতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছে, যেটি চোখের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

    দুটি প্রতিবেদন দুই রকম কেন– আদালত জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইসিডিডিআরবি যেটা করেছে, সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে করেছে। সুতরাং তখন ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি তারা পেতে পারেন। আর মন্ত্রণালয়ের যে তদন্ত হয়েছে, সেটি পরে হয়েছে। ততদিনে ব্যাকটেরিয়া মরে যেতে পারে স্বাভাবিক নিয়মে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়।

    পরে আদালত আগামী ১৬ জুলাই এ মামলায় জারি করা রুলের পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করে প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘লিখিত জবাবে যেন ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয়। যাতে করে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়।’ আদালত স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০