• শিরোনাম

    রায়হান কবির সমাচার এবং প্রকৃত তথ্য

    ফারুক নওয়াজ | শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 289 বার

    রায়হান কবির সমাচার এবং প্রকৃত তথ্য
    মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশী যুবক রায়হান কবিরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাস খানেক ধরেই সরব। জেনে হোক বা না জেনে হউক আমরা সবাই নিজেদের মনের মত তথ্য প্রচার করছি। আবার অনেকে অজ্ঞানতাপ্রসুত ভুল তথ্য সরবরাহ করছি।
    রায়হান কবিরের বিষয়ে আমরা যা জানি তার চেয়েও বেশী প্রচারের চেষ্টা করছি যা হাস্যকর উপাদান হয়ে উঠেছে।
    প্রকৃত সত্য হলো মালয়েশিয়ায় চাকুরীরত বাংলাদেশের রায়হান কবির (২৫) আল জাজিরা টেলিভিশনের একটি তথ্য চিত্রে বক্তব্য দিয়েছিলেন করোোকালে মালয়েশিয়ার অভিবাসী বৈধ ও অবৈধ শ্রমিকদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।
    সে তথ্যচিত্রটি গত ৩ জুলাই প্রচার হয় আল জাজিরা টেলিভিশনে। তথ্যচিত্রটি প্রচারের পর পরই মালয়েশিয়া সরকারের নজরে আসে। এরপর তারা রায়হান কবিরের বিষয়ে খোজ খবর নেয়া শুরু করে।
    এদিকে রায়হান কবির আত্মগোপনে চলে যায়। গত ২৪ জুলাই তাকে মালয়েশিয়ার পুলিশ গ্রেফতারে সক্ষম হয়।
    রায়হানের গ্রেফতারের পরই বিষয়টি সবার নজরে আসে। রায়হানের মুক্তির এবং তাকে যেন পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করা না হয় পাশাপাশি তাকে দেশত্যাগে যেন বাধ্য না করা হয় সে বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানান।
    রায়হান গ্রেফতারের একদিন পর অর্থাৎ ২৫ জুলাই মালয়েশিয়ার অভিবাসন দপ্তর ঘোষনা দেয় রায়হানকে মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং তাকে মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ করা হবে।
    এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর নয় নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সরকার যদি মনে করে কোন ব্যক্তি সে দেশের জন্য অবাঞ্ছিত তাহলে তাকে বহিষ্কার করতে পারে।
    রায়হানের অপরাধ এবং আইনের ব্যাখ্যায় তাকে সে দেশের সরকার বহিষ্কার করার পাশাপাশি অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেছে।
    রায়হানের নিয়োগকর্তাকেও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
    রায়হানের মুক্তির বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেলেও প্রকৃত সত্য হলো মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী তিনি একজন অবিবাসী হিসেবে ভিসা পাওয়ার পর সে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে অযাচিত মন্তব্য করেছেন। অভিবাসন আইন অনুযায়ী এটি একটি অপরাধ।
    রায়হান নিজের অপরাধ সম্পর্কে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছে বলে জানা গেছে।
    রায়হান দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর গ্রেফতার হয়েছিলো। ইতিমধ্যে তাকে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সে দেশটির আদালত।
    করোনা পরিস্থিতির কারনে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল না থাকায় আটক রায়হানকে জেলে রাখা হয়েছে। বিমান চলাচল শুরু হলে তাকে প্রথম বিমানে করে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
    মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে আইনী সুরক্ষা দেয়া হয়েছে এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারনে তাকে সে দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
    রায়হান কবিরের বিষয়ে না জেনে বা না বুঝে অনেকেই অনেক তথ্য বিকৃতি করছেন এটা সাময়িক তৃপ্তির যোগান দিলেও পক্ষান্তরে হাসির খোরাক হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২০

    eurobarta24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    করোনা কালে ঈদ

    ৩১ জুলাই ২০২০

    আর্কাইভ