• <div id="fb-root"></div>
    <script async defer crossorigin="anonymous" src="https://connect.facebook.net/en_GB/sdk.js#xfbml=1&version=v4.0&appId=540142279515364&autoLogAppEvents=1"></script>
  • শিরোনাম

    শামসুর রাহমান: সংগ্রামী সত্তার উজ্জ্বল নিদর্শন

    শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ | ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

    শামসুর রাহমান: সংগ্রামী সত্তার উজ্জ্বল নিদর্শন

    শিল্প-সাহিত্যে মতভেদ বা বিরুদ্ধতা কোনো নতুন কথা নয়। অনভিপ্রেতও নয়, যতক্ষণ তা একটা সীমায় থাকে। শামসুর রাহমানের বিরুদ্ধবাদীরা সে সীমা মানতেন না। অনেক সময়ই তা সৌজন্য আর শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যেত। এমন ক্ষেত্রে অনেককেই দেখা যায় বিবৃতি-নিবন্ধে। পত্র-পত্রিকার পাতা ভরাট করে নিজেদের তুলে ধরতে, বিতর্কে মাতাল হতে। শামসুর রাহমান কখনো তা করতেন না। আদতে এসব করার সময়ও হয়তো তাঁর ছিলো না। একমাত্র আরাধ্য কবিতায় তিনি এমনই নিমগ্ন থাকতেন যে এসব নিয়ে বিচলিত হওয়ার কথা তিনি ভাবতেও পারতেন না। আর এ জন্যই হয়তো তিনি শামসুর রাহমান।

    শামসুর রাহমান বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিরিশ পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্র কাব্যধারা অতিক্রমণের প্রবণতা চল্লিশের দশকেও প্রবাহিত ছিল। নতুন বাঁক সৃষ্টির দায়বদ্ধতা তাঁদের মধ্যে ততোটা প্রগাঢ় হয়ে ওঠেনি। পঞ্চাশের দশকে আত্মপ্রকাশ করেন কিছুটা স্বাতন্ত্র্য নিয়ে- আল মাহমুদ, হাসান হাফিজুর রহমান, শহীদ কাদরী প্রমুখ। তাঁদের সঙ্গেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে নিজের বিশেষত্বকে প্রকাশ করেন শামসুর রাহমান। আবু সয়ীদ আইয়ুবের মতে, তিরিশের পরে শামসুর রাহমান-ই বাংলা কবিতার প্রধান কবি।

    ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর শামসুর রাহমানের জন্ম। তার জন্মস্থান ঢাকা। বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম। পিতার বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরায় পাড়াতলী গ্রামে। কবি শামসুর রাহমানের ভাই-বোনের সংখ্যা ১৩ জন। তাদের মধ্যে, কবির অবস্থান চতুর্থ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক। সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক মর্নিং নিউজে, পরে একাধিক পত্রিকায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭-তে সামরিক সরকারের শাসনামলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবন ছিল তার।

    বিংশ শতকের তিরিশের দশকের ৫ মহান কবির পর তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে খ্যাতিমান। তার প্রথম প্রকাশিত কবিতা ১৯৪৯ মুদ্রিত হয় সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায়। শামসুর রাহমান ১৯৫৫ সালের ৮ জুলাই জোহরা বেগমকে বিয়ে করেন। কবির ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে। তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে নিজ মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

    শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা কাব্যগ্রন্থ ৬৬, উপন্যাস ৪, প্রবন্ধ গ্রন্থ ১, ছড়ার বই ১, অনুবাদ ৬। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। ভারতের যাদবপুর ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে।

    বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের কবিতার ভাষা নির্মাণে পঞ্চাশ দশকের এই কবির রয়েছে প্রগাঢ় ভূমিকা। কবিতাকে সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে-মিশিয়ে গড়ে তুলেছিলেন জননন্দিত কাব্যভুবন। প্রশ্ন হচ্ছে, শামসুর রাহমানের কবিতার উত্তরাধিকার এখন কোন দিকে, কোন পথে?

    ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’-স্বৈরাচারী শাসকের অত্যাচারী চিৎকার শুনে এমনই বাক্য ধ্বনিত হয়েছিল তাঁর প্রতিবাদী লেখায়, তাঁর কণ্ঠে। তাঁর চেতনায় ছিলো বিশুদ্ধ নাগরিক চিত্ত আর হৃদয়ে ছিলো দেশের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা।

    তাঁর কবিতায় পাওয়া যায় কালের প্রভাবে পীড়িত, বিশ্বাসে চিড় ধরা, প্রতিবাদী ও সংগ্রামী এক কবি-মন। দেশের প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে তাঁর সরব প্রতিক্রিয়া। প্রতিটি সংগ্রামে তিনি কলম তুলে নিয়েছেন নিজের মতো করে। নাগরিক এই কবির কাব্য প্রকাশও ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত। তিনি মনে করতেন- কবিতা বড় গূঢ়াশ্রয়ী, বড় জটিল। জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কুড়িয়ে আনতে চেয়েছেন পাতালের কালি এবং সকল রহস্যময়তা।

    কবিতাকে তিনি ব্যবহার করেছেন সমকালকে ধারণ করতে, করেছেন প্রতিবাদী চেতনা প্রকাশের দৃঢ় হাতিয়ার। তাঁর অসাধারণ কাব্যভঙ্গিতে মুগ্ধ হয়েছে পাঠক। ব্রিটিশ শাসনকে সরাসরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন দেশভাগের ভয়াবহতা। অনুভব করেছেন নিজ বাসভূমিতে পরবাসী হওয়ার দুঃখ। মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন মাতৃভূমির প্রতি গভীর টান।

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন তাঁর চিত্তকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিলো। হৃদয়ের গভীর থেকে মাতৃভাষার প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে‘দুঃখিনী বর্ণমালা’ কবিতায়।

    আসাদের শার্ট` অন্যতম ঐতিহাসিক একটি কবিতা। ওই কবিতায় কবি জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতাই বাঙালির প্রকৃত গন্তব্য। নির্যাতিত বাঙালির ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্রের মতোই এই কবিতা শাণিত করেছে সেই সময়ের তরুণ প্রজন্মকে। তিনি ছিলেন নিভৃতচারী কবি; উচ্চকণ্ঠ ছিলেন না কখনও। কিন্তু তাঁর ধীশক্তিসম্পন্ন লেখনী আমাদের শাণিত করেছে বহুভাবে। বিশেষ করে বাঙালি জাতির প্রতিটি স্বাধীকার আন্দোলনে তাঁর কবিতা আমাদের সাহস যুগিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ভয়াবহতা তিনি চিত্রিত করেছেন কবিতায়। একজন কবির দৃষ্টিতেই শুধু নয়। যেন এক বিদগ্ধ নাগরিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সংগ্রামী সত্তার উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রশ্নবাণে তিনি জর্জরিত করেছেন প্রতি বাঙালির হৃদয়। তাঁর দৃপ্ত উচ্চারণ প্রতিধ্বনিত হয়েছে বার বার। জাতিকে জাগিয়ে তুলতে তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর অবদান অশেষ।

    একদিকে যেমন তিনি স্বধীনতার পুষ্প সৌরভকে অনুভব করেছেন, তেমনি অপরদিকে শাসকের অত্যাচারকে করেছেন প্রত্যক্ষ। উপলব্ধি করেছেন তাঁর প্রাণের বাংলায় শোষকের রাজত্ব। শাসকের বুটের পদতলে দেখেছেন শ্যামল বাংলাকে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এক ধরনের বন্দী ছিলেন তিনি। তারপরও তাঁর কবিত্ব দাঁড়িয়েছে মজলুম মানুষের পক্ষে। তাঁর কাব্যের বুননে উঠে এসেছে একাত্তরের বুলেটবিদ্ধ হৃৎপিণ্ডের ছটফটানি। তিনি `স্বাধীনতা` নামক শব্দটিকে দেখেছেন বৃহৎ ক্যানভাসে। `স্বাধীনতা` শব্দটিকে তিনি উচ্চারণ করেছেন দৃপ্ত কণ্ঠে। শহরের অলিতে, গলিতে, আনাচে-কানাচে, প্রতিটি রাস্তায়, বাড়িতে, সাইনবোর্ডে, পাখিতে, নারীতে ঝলকিত হতে দেখেছেন প্রিয় শব্দটিকে।

    বিশ্বের কবিকূলকে ডেকে বলেছেন, তোমরা দেখে যাও একজন কবি হিসেবে আমি কেমন আছি। যেমনটি ছিলেন সেই সময়ে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি।

    তিনি কখনও হতাশায় নিমজ্জিত হননি বরং সময়ের প্রতীক্ষায় থেকেছেন। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর চেতনায় কোনো আশার চিহ্ন দেখেননি। তাঁর কাছে মনে হয়েছিল হয়তো ঈশ্বর নেই। আর শামসুর রাহমান চিন্তা করেছিলেন তাঁর বিপরীত পথে। গেরিলার আগমনের আশায় তিনি থেকেছেন উদগ্রীব। এখানেই শামসুর রাহমানের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য। চন্দন চৌধুরী যথার্থই মন্তব্য করেছিলেন, ‘শামসুর রাহমানের কবিতা বহিরাশ্রয়ী, সংগ্রামী, সময়-সচেতন, সমকাল উৎসাহী।’সমকালের কবি বলেই বিশুদ্ধতার প্রতি তাঁর ছিল তীব্র অনাস্থা।

    শামসুর রাহমান ছিলেন একজন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক কবি। মৌলবাদের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় ছিলেন সোচ্চার। এজন্য তাঁকে দৈহিক আক্রমণের শিকারও হতে হয়েছিল। তিনি নিষিদ্ধ ছিলেন বিভিন্ন জেলায়, মৌলবাদীদের দ্বারা। তাঁর জীবন ছিল খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

    তিনি ছিলেন সংকল্পবদ্ধ নতুন দিনের সৈনিক। তাঁর কবিতার আর্ত হাহাকার কাব্যগ্রন্থের শিরোনামগুলো-ই বুঝিয়ে দেয়। অন্যান্য কবিদের মতো শামসুর রাহমানের নায়কেরা চির অন্ধকারের বাসিন্দা নয়। যেখানে আলো প্রবেশ করতে পারে না সেখানেও তিনি খুঁজেছেন মুক্তির পথ।

    শামসুর রাহমান যথার্থই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন এ যুগ স্বভাব কবির নয়, স্বাভাবিক কবির। জীবনানন্দ পেয়েছিলেন সরল প্রকৃতি থেকে ইন্দ্রিয়ঘন প্রকৃতির রং-রূপের সন্ধান। সুধীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন ঈশ্বরহীন পৃথিবী। বুদ্ধদেব বসু পেয়েছিলেন প্রেম ও আঁধারকে। শামসুর রাহমান পেলেন নগরজীবনকে। হয়ে উঠলেন প্রকৃত অর্থেই ‘নাগরিক কবি’। সংগ্রামী চেতনায় ধারণ করলেন শহরের প্রতিচ্ছবি।

    বিরূপ বিশ্বের নাগরিক হিসেবেও তিনি সচেতন। তাঁর কবিতায় ধ্বনিত হয় সমকালীন বর্বরতা ও হিংস্ররতার চিৎকার। প্রেমিকার সঙ্গে মিলন মুহূর্তেও তাঁর মনে হয় ভিয়েতনামে বোমাবর্ষণের কথা। সভ্যতার এই কুৎসিত অহংকারের যুগে বেঁচে থাকার চেয়ে তাঁর কাছে সহজ ক্রুশে বিদ্ধ হওয়া। এই অসাধারণ চেতনায় আচ্ছন্ন ছিলেন বলেই তিনি সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন অদ্ভুত সব কবিতা যা কেবল সমকালের প্রতিধ্বনি হিসেবেই আন্দোলিত হয়নি রয়ে গেছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়েও। আর শামসুর রাহমান আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে গেছেন সমাজসচেতন কবি হিসেবে।

    সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের উজ্জ্বলতম ব্যক্তিত্ব শামসুর রাহমান। যেমন চেহারায়, তেমনি আচার-আচরণে। আর নিজের কর্মের জগতে তো তিনিই ছিলেন শীর্ষ অবস্থানের অধিকারী। আরবি ‘শামস’-এর বাংলা অর্থ সূর্য। সূর্যের মতোই দ্যুতিময় ছিল তাঁর উপস্থিতি।

    জীবনভর তাঁকে প্রতিবন্ধকতা ঠেলেই পথ চলতে হয়েছে। সে কেবল বাইরের নয়, নিজের থেকেও তাঁর প্রতিবন্ধকতার কমতি ছিলো না। সে হচ্ছে তাঁর স্বাস্থ্য। প্রথম যৌবন পাড়ি দেয়া পর্যন্ত তিনি ছিলেন সুদর্শন ও সুডৌল স্বাস্থ্যের অধিকারী। ক্রমে তাতে নানা ব্যাধি এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে। হয়তো তাঁর জীবনচর্চায় শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবনার কোনো ঠাঁই ছিলো না বলেই এমনটা ঘটেছিলো। রক্তে শর্করার আধিক্য, উচ্চ রক্তচাপ, অর্শ ও চোখের ব্যাধি তাঁকে কাহিল করে তোলে। শরীর ক্রমেই পরাজয়ের দিকে এগোতে থাকলেও তাঁর মন কিন্তু কখনও পরাজয় মানেনি। সর্বক্ষণ তো কবিতা আর লেখালেখি নিয়েই থাকতেন। শেষ শয্যায় থেকে, সর্বশেষ যে ইচ্ছাটি ব্যক্ত করেছিলেন তা-ও ছিল, ‘আমি লিখবো’।

    আমাদের দুর্ভাগ্য, এক বৈরী পরিবেশে কবিকে শেষবারের মতো হাসপাতালে যেতে হয়। যার ফলে শামসুর রাহমান জীবনের ৭৭ বছরও পুরো করার সুযোগ পেলেন না। তবে হ্যাঁ, এ যুগের বিবেচনায়, অনেকটা অকালে চলে গেলেও নিজের কাজের মাধ্যমে তিনি অমরত্ব অর্জন করে গেছেন, বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষা যতো দিন আছে, শামসুর রাহমানের উপস্থিতিও ততো দিন থাকবে। তাঁর কবিতাই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে।

    ১৭ আগস্ট। কবি শামসুর রাহমান এর মৃত্যুবার্ষিকী।  তাঁর প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

    শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ: সিনিয়র সাংবাদিক
    jsb.shuvo@gmail.com

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০