• শিরোনাম

    সাংবাদিকতা, নৈতিকতা এবং ফ্রান্সের বাংলা গণমাধ্যম

    ফারুক নওয়াজ | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 177 বার

    সাংবাদিকতা, নৈতিকতা এবং ফ্রান্সের বাংলা গণমাধ্যম

    প্রতিদিনের যে কোন বিষয়, ঘটনা, মানুষ সম্পর্কিত যে কোন তথ্য পরিবেশন করার নামই হলো সাংবাদিকতা। একজন সাংবাদিকের পরিবেশন করা সংবাদ সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। সাংবাদিক যে কোন সংবাদ পরিবেশনের পুর্বে নির্মোহভাবে সে সংবাদটিকে যাচাই বাছাই করে। এরপর সকল পাঠকের কাছে সহজভাবে সাধারন ভাষায় সেটি পরিবেশন করে থাকে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নানা বাধা বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা থাকলেও একজন সাংবাদিক উনার রচনা কৌশল দিয়ে তা দুর করার চেষ্টা করে থাকে।
    বিভিন্ন ধরনের পাঠক রয়েছে আমাদের সমাজে। তাদের চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। একজন সাংবাদিকের মুন্সীয়ানা ফুটে উঠে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে।
    আমাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে যেমন সবার রুচি এক হয় না ঠিক তেমনি সকল পাঠক এক ধরনের সংবাদে তুষ্ট হতে পারেনা।
    সংবাদের শ্রেনী বিভিন্ন রকমের রয়েছে। আইন বিষয়ক, অনুসন্ধানী, ক্রীড়া, বিনোদন, আলোকচিত্র, উন্নয়ন সাংবাদিকতার পাশাপাশি বর্তমান যুগে চালু হয়েছে নাগরিক সাংবাদিকতা। এখানে প্রতিটি ব্যক্তিই একজন সংবাদ পরিবেশনকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে সে সব সংবাদে অনেক সময় আবেগের ছড়াছড়িও দেখা যায়। এসব সাংবাদিকতায় অনেক সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না।
    সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈতিকতা শব্দটি অত:প্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। একজন সাংবাদিককে কিছু নীতি ও নৈতিকতা মেনে চলতে হয়। সাংবাদিকদের নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ে অনেক ব্যাখ্যা আছে। সবচেয়ে বেশী যে সব বিষয়ের উপর নজর রাখতে হয় সেগুলো হলো ; সততা, সুক্ষতা, বিষয়বস্তুর উদ্দেশ্য, পক্ষপাতহীনতা এবং কৈফিয়ত।
    একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় যে গুনটি দরকার সেটি হলো সততা। একজন সাংবাদিক যদি সৎ না হন তাহলে তাঁর পক্ষে নির্মোহভাবে কোন সংবাদ পরিবেশন করা কখনোই সম্ভব হরে না।
    সুক্ষতা একটি বড় উপকরন ভাল সাংবাদিক হওয়ার ক্ষেত্রে। একজন সাংবাদিক যদি কোন তথ্য পাওয়ার পর সেটি সুক্ষভাবে বিচার বিশ্লেষন না করতে পারেন তাহলে সে সুত্র দিয়ে কখনো ভাল সংবাদ আশা করা যায় না।
    সাংবাদিককে জানতে হবে কোন বিষয় নিয়ে সংবাদটি লিখছেন। খুব সহজ একটি বিষয় নিয়েও ভাল সংবাদ পরিবেশন করা যায় যদি সে সাংবাদিক ঘটনার মধ্যে প্রবেশ করতে পারেন। পাঠকের জন্য তিনি কি সংবাদ পরিবেশন করতে যাচ্ছেন এবং সেটা পাঠকদের মাঝে কি ধরনের সাড়া ফেলতে পারে এটা জানতে পারলেই বিষয়বস্তুর উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায় একজন সাংবাদিকের কাছে।
    একজন সাংবাদিকের নৈতিকতার বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে উনাকে সর্বাগ্রে পক্ষপাতহীন আচরনের জন্য তৈরী থাকতে হবে। কোন সংবাদ পরিবেশনের পুর্বে একজন সাধারন পাঠকের দৃষ্টিতে সে ঘটনাটি বিশ্লেষন করলেই অনেকটা নিরপেক্ষ থাকা যায়। কোন একটা ঘটনা ঘটার পর আনুপঙ্খ বিশ্লেষন করে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সংবাদ পরিবেশন করা একজন সাংবাদিকের নৈতিকতার মধ্যে পড়ে।
    একজন সাংবাদিক আমাদের সমাজেরই একজন মানুষ। উনার ও জবাবদিহিতা রয়েছে সমাজের কাছে, আইনের কাছে। একজন সাংবাদিককে সব সময় মনে রাখতে হবে একটি ভুল সংবাদ বা নীতিহীন সংবাদ পরিবেশনের পর সেটার কুপ্রভাব এ সমাজে পড়তে পারে। এ কারনেই একজন সাংবাদিককে উনার বিবেকের কাছে কৈফিয়ত দেয়ার জন্য তৈরী থাকতে হয়।
    যদিও বর্তমানে সাংবদিকদের নীতি ও নৈতিকতা সংক্রান্ত অনেক আইন হয়েছে। কোন সংবাদ পরিবেশনযোগ্য আর কোনটি নয়। কোন সংবাদের কতোটুকু রাখা যেতে পারে আর কোন অংশ ফেলে দিতে হয় এটার জন্য একাধিক নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা এবং আইন প্রনয়ন করা হয়েছে। একজন সাংবাদিকের মাঝে থাকতে হবে পরিমিতিবোধ। কখনোই অতিরঞ্জিত বা অপ্রয়োজনীয় তথ্য পরিবেশন করে সংবাদ তথা সাংবাদিকের মান নিম্নমুখী করা একজন সাংবাদিকের নীতির মধ্যে পড়ে না।
    ফ্রান্সে বাংলা গনমাধ্যমের ভুমিকা নিয়ে লিখতে গেলে বিস্তারিতভাবে লেখার পরিসর এ প্রবন্ধে নেই। প্রবাসে গতানুগতিক সংবাদ পরিবেশনের ধারা নেই। এখানে সাধারনত: ইতিবাচক সংবাদ বেশী পরিবেশন করা হয়।
    বেশীরভাগ সংবাদই হয়ে থাকে সংগঠন ভিত্তিক। কোন সংগঠন কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো। প্রবাসে ভাল ছাত্র বা কোন ব্যক্তির সাফল্য নিয়েও সংবাদ পরিবেশন করা হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেরও সংবাদ পরিবেশন করা হয়। অনেকটা কোন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক যেমন সংগঠনের যাবতীয় তথ্য প্রেস রিলিজ আকারে সংবাদপত্র অফিসে প্রেরন করে সে রকম সংবাদই বেশী পরিবেশন করা হয়।
    ফ্রান্সে বাংলাদেশী গনমাধ্যম একটি শক্তিশালী ও কল্যানমুখী বাংলাদেশী সমাজ গঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সংগঠনগুলোর ইতিবাচক ভাবমুর্তি সমাজে ফুটে ওঠায় ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী এবং দেশের মানুষের মাঝে একটি ভাল ধারনা সৃষ্টি হচ্ছে।
    ফ্রান্সে বাংলাদেশী গনমাধ্যমগুলোর সক্রিয় ভুমিকার কারনে এদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাস ও স্বৈচ্ছাচারী আচরন করতে পারেনা। বিশ্বায়নের এ যুগে সব ধরনের তথ্য অবাধ প্রবাহের ফলে মধ্যস্বত্বভোগী দালাল শ্রেনীও খুব একটা সক্রিয় থাকতে পারেনা। সংবাদ মাধ্যমের অনুপস্থিতি অনেক অন্যায়ের জন্ম দিতে পারে। ফ্রান্সে বাংলাদেশী গনমাধ্যমের কর্মীরা নিজ উদ্যোগে কাজের পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনা প্রবাসীদের মাঝে নির্মোহভাবে বিতরন করতে পারে।
    প্রবাসের সাংবাদিকতা বলতে কোন ধরনের পারিশ্রমিক ছাড়াই নিজের বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের উপকার করা। সাংবাদিকরাই পারে একটি জবাবদিহিমুলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। যে সমাজে থাকবে না কোন বঞ্চনা ও অন্যায় এবং অবিচার।

    বাংলাদেশ সময়: ২:২৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

    eurobarta24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ