• <div id="fb-root"></div>
    <script async defer crossorigin="anonymous" src="https://connect.facebook.net/en_GB/sdk.js#xfbml=1&version=v4.0&appId=540142279515364&autoLogAppEvents=1"></script>
  • শিরোনাম

    সাইবার জগতে ‘পোকেমন গো’ নিয়ে উন্মাদনা, নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা

    ডেস্ক | ২৬ জুলাই ২০১৬ | ১:২২ পূর্বাহ্ণ

    সাইবার জগতের নতুন গেম ‘পোকেমন গো’ নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। পথঘাটে মোবাইল হাতে পোকেমন খুঁজতে গিয়ে বিদেশে দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

    জাপানভিত্তিক ভিডিও গেম নির্মাতা নিনতেন্দোর জনপ্রিয় গেম ‘পোকেমন’। এ গেমেরই মোবাইল সংস্করণ ‘পোকেমন গো’। ভিডিও গেমটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের উন্মাদনা চলছে।

    ‘পোকেমন গো’ খেলাটি সাইবার জগতে নতুন আমদানি করা হলেও আদতে এই কার্টুন দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। তাই পোকেমনকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞাপনও করছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা।

    ৬ জুলাই অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্লাটফর্মের জন্য গেমটি উন্মোচন করে নির্মাতা কোম্পানিটি। সাইবার দুনিয়ায় ক্যান্ডিক্রাশ, ক্ল্যাশ অব ক্ল্যানসে মজে থাকা তরুণ-তরুণীরা নতুন এ গেম ডাউনলোড ও খেলায় এখন নেমে পড়েছে। পোকেমন গো উন্মাদনা প্রভাব ফেলেছে বড়দের ওপরও। জনপ্রিয় দুটি প্লাটফর্মের জন্য উন্মোচন করা হলেও ব্যবহারকারীরা বলছেন, গুগল প্লে বা অ্যাপল স্টোর থেকে গেমটি মিলছে না। ডাউনলোড করা যাচ্ছে অন্যকিছু সাইট থেকে। বর্তমান পরিস্থিতি এমনই যে, ওয়েবে ‘হাউ টু প্লে’ লিখলেই চলে আসছে পোকেমন গো। গেমটি ঘিরে এত উন্মাদনা কীসের? কেনইবা এটি খেলায় বিপদের আশঙ্কা?

    মনোবিদদের একাংশ বলছেন, বিভিন্ন ধরনের কার্টুন এমনিতেই শিশুমনের উপরে প্রভাব ফেলে। তার উপরে যে ভাবে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিও এই সব চরিত্রকে ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন করছে, তাতে রীতিমতো উন্মাদনা ছড়াচ্ছে। সাইবার প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এক যুবকের ভাষায়, ‘পোকেমন গো নিয়ে উন্মাদনা ছড়াচ্ছে, তার পিছনেও কিন্তু এই কার্টুনের জনপ্রিয়তা রয়েছে।’’ তাঁর মতে, পোকেমন গো নিয়ে তরুণ প্রজন্মই এত অদ্ভূত আচরণ করছে, শিশুরা তো এমন কাণ্ড আরও বেশি করে ঘটাবেই। পুলিশের অনেকেও মনে করছেন, এই ধরনের উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে শিশু চুরি বা পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরাও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

    পোকেমন আসলে কী?

    কার্টুন হিসেবে পোকেমন দুই দশকের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয়। এটি এক ধরনের ভার্চুয়াল প্রাণী। প্রশিক্ষণ দিয়ে পোকেমনকে নিজের মতো করে যুদ্ধে অংশ নিতে ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেকটি পোকেমন চরিত্রের রয়েছে পৃথক সুপার পাওয়ার। গেমটির জনপ্রিয় চরিত্র ‘পিকাচু’। এবার এতে যুক্ত হয়েছে বেশকিছু কৌশল। এ গেমজুড়ে রয়েছে গুগল ম্যাপ ও ভার্চুয়াল জগৎ।ডাউনলোড করার পর ফোনের জিপিএস চালু করলে গেমের সার্ভার গেমারের অবস্থান জেনে নেয়। গেমারের অবস্থান বিবেচনা করে ওই এলাকার ম্যাপ বিশ্লেষণ করে বলে দেয়া হয় কোথায় রয়েছে পোকেমন। নির্দেশিত এলাকায় পৌঁছে ফোন ক্যামেরা চালু করলেই পোকেমনের ছবি মিলবে। সেটিকে বল মেরে ধরতে হবে। পুরস্কার নিতে আসবে একাধিক গেমার। কিন্তু যে আগে পৌঁছবে, সেই জিতবে পুরস্কার।

    কীভাবে পোকেমন গো খেলতে হয়?

    ভিডিও গেমটি খেলতে বেশকিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এগুলো হলো- খেলার সময় ধীরে হাঁটতে হবে। হাঁটার সময় কখন কোথায় থামতে হবে, তা বুঝে নিতে হবে। থাকতে হবে পোকেজেম বিষয়ে ধারণা। দুর্লভ প্রজাতির পোকেমন কিনতে এ পোকেজেম ব্যয় করা হয়। পাশাপাশি থাকতে হবে পোকেমন ধরার বিশেষ দক্ষতা। ধরুন পোকেমন ধরার জন্য পোকেবল কীভাবে ছুড়ে মারবেন। বলটিকে প্রথমে ঘুরিয়ে এরপর ছুড়ে মারতে হয়। যদিও কিছু কিছু পোকেমন খুব শক্তিশালী হয়। এ ধরনের পোকেমন বল ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শক্তিশালী পোকেমন ধরতে প্রথমে যুদ্ধ করে ক্লান্ত করে নিতে হবে অথবা খাবার দিয়ে পোষ মানিয়ে ধরা যেতে পারে।

    পোকেমন গো নিয়ে বিতর্ক…

    জনপ্রিয় এ গেম খেলার জন্য প্রচুর হাঁটতে হয়। মূলত এ কারণেই বোধহয় এটির নাম পোকেমন গো। বেশি বেশি হাঁটা শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গেমটি টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে অপরাধীরা। পোকেমন ধরার টোপ দিয়ে প্রথমে নির্জন স্থানে নেয়া হয় গেমারকে। এরপর বন্দুকের মুখে রেখে দাবি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় পোকেমন গো-সংশ্লিষ্টরা অপরিচিতদের সঙ্গে গেমটি খেলতে বা পোকেমন ধরার লোভে অচেনা কোনো স্থানে যেতে নিষেধ করেছেন।

    পশ্চিমা দেশগুলোর মতো মধ্যপ্রাচ্যেও গেমটি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গেমটির ভার্সন ডাউনলোডের ব্যবস্থাও করেছে কর্তৃপক্ষ। বেশ কিছু দুর্ঘটনাও ঘটেছে তুমুল জনপ্রিয় এ গেমটি খেলতে গিয়ে।

    এ অবস্থায় ‘পোকেমন গো’র বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন সৌদি আরবের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম। এছাড়াও মিশর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ গেমটি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

    সৌদি আরবের ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ২০০১ সালে প্রথম যখন এ গেমটি শুরু করা হয় তখন এটি কার্ড দিয়ে খেলা হতো, এবং এতে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে, যা ইসলামসম্মত নয়। এ ছাড়া এ গেমটি জুয়াকে উৎসাহিত করে।

    শীর্ষস্থানীয় আলেম শেখ আল-ফোজানের ফতোয়াতে বলা হয়েছে, এ গেমটির সিক্স-পয়েন্টযুক্ত স্টারগুলোর ইসরায়েলের জাতীয় চিহ্নের সঙ্গে মিল রয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু ত্রিকোণ চিহ্ন রয়েছে যার ভিন্ন অর্থ রয়েছে। গেমটিতে ব্যবহৃত ক্রসগুলো খ্রিষ্টানদের চিহ্ন। এ ছাড়া কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে যা বহুদেবতাবাদের প্রকাশ। এ গেমটি শিশুরা শুধু নয়, বড়রাও খেলতে পারে, যা জুয়াকে উৎসাহিত করতে পারে।

    এ গেমটির বিষয়ে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলাররাও মুখ খুলেছেন। আল-আজহারের আন্ডারসেক্রেটারি আব্বাস সুম্যান বলেন এ গেমটি মানুষের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নষ্ট করে এবং নিজেকে খেলার সময় বিপদে ফেলার আশঙ্কা থাকে।

    মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দেশ কুয়েতেও এ গেমটির কারণে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী সম্প্রতি এ গেমটির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি মসজিদ, শপিং সেন্টার, মল ও তেল স্থাপনায় এ গেমটি খেলতে নিষেধ করেছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষও এ গেমটির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন নাগরিকদের। সে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গেমটিতে ব্যবহৃত ‘জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশন’ ব্যবস্থা থেকে অপরাধীরা তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে।

    রাজনীতিতেও পোকেমন গো

    পোকেমন গো নিয়ে নানা উন্মাদনায় যুক্ত হয়েছে মার্কিন রাজনীতিও। সর্বশেষ হিলারির নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হয় ‘পোকিমন গো’-এর নাম। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট জানায়, বৈশ্বিক রাজনীতিতে গেমটির প্রবেশ শুধু সময়ের ব্যাপার ছিল। আর শুরুটাও হয়ে গেল আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ওয়েবসাইট থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডের কাছাকাছি ‘পোকস্টোপ’-এ একটি ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ‘ইভেন্ট’ খোলা হয়েছে। প্রচারের অংশ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘ম্যাডিসন পার্কের পোকস্টোপে আসুন এবং যোগ দিন আমাদের সঙ্গে। হিলারির দলে রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে সঙ্গে এখানে আপনি পাচ্ছেন বিনামূল্যে পোকিমন এবঙ পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধে মেতে ওঠার সুযোগ। শিশুদেরও আমাদের ক্যাম্পে স্বাগত জানানো হচ্ছে।’

    পোকেমন গোকে মরিনহোর লাল কার্ড

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়েরাও এখন মজেছেন পোকেমন গোতে। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক পছন্দ হয়নি হোসে মরিনহোর। ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমে এর মধ্যেই গেমটি নিষিদ্ধ করেছেন।

    শুধু গেম বললে ভুল হবে, পোকেমন গো এখন একটা নেশাই হয়ে গেছে। মরিনহো নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, অনুশীলনের ফাঁকে বা ড্রেসিংরুমে সুযোগ পেলেই খেলোয়াড়েরা সেটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। পর্তুগিজ কোচ তাই জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে এই গেমটা খেলা চলবে না। ইংলিশ দৈনিক ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মরিনহো এমনিতে ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুম নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। কিন্তু পোকেমন গো নিয়ে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত মাতামাতি তাঁর ভালো লাগেনি। সে জন্যই ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে এই গেম নিষিদ্ধ করেছেন ইউনাইটেডের নতুন কোচ। খেলোয়াড় মনোযোগ তিনি স্মার্টফোনের স্ক্রিনের চেয়ে ট্যাকটিকস বোর্ডেই বেশি চান।

    পোকেমন গো উন্মোচনের পর…

    পোকেমন গো মোবাইল গেমটি যুক্তরাষ্ট্রে চালুর পর থেকেই চাঙ্গা জাপানি গেম নির্মাতা কোম্পানি নিনতেন্দোর শেয়ারের দাম বেড়েছে আরো ১৪ শতাংশ। পোকেমন গোর কল্যাণে বাজার মূলধন এরই মধ্যে পৌঁছেছে ৪ হাজার ২৫০ কোটি ডলারে, যা কোম্পানিটির আগের বাজার মূলধনের দ্বিগুণ। ৬ জুলাই গেমটি উন্মোচনের পর নির্মাতা কোম্পানিটির শেয়ারদর এখন পর্যন্ত বাড়ল শতভাগেরও বেশি।

    স্থানীয় বাজারে উন্মোচন করা হয়নি গেমটি

    বৈশ্বিকভাবে ব্যাপক সাড়া ফেললেও নিনতেন্দোর স্থানীয় বাজার জাপানেই পোকেমন গো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়নি। গেমটির জনপ্রিয় চরিত্র পিকাচু। গেমারদের ধারণা এর জন্ম জাপানে। ধারণা করা হচ্ছে, জন্মস্থানে পিকাচুর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হবে জুলাই শেষে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে গেমটি খেলার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নয় স্থানীয় বাজারের সার্ভার। গেমটি শিগগিরই চালুর উদ্দেশ্যে সার্ভার সক্ষমতা উন্নয়নে অংশীদার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করছে নিনতেন্দো।

    কলকাতায় শনিবার রাতে কী হয়েছিল?

    কলকাতায় ‘পোকেমন গো’ নিয়ে উন্মাদনা থাকলেও এখনও বিপদ ঘটেনি। তবে শনিবার রাতে পোকেমন ‘স্টিকারের’ উন্মাদনায় কার্যত বিপদে পড়েছিল ন’বছরের শিশু অনিমেষ সিংহ। শেষ পর্যন্ত হাওড়া স্টেশনে রেলরক্ষী বাহিনীর চোখে পড়ে যাওয়ায় তাকে উদ্ধার করা গেছে।

    শনিবার সন্ধ্যায় মধ্য হাওড়ার বনবিহারী বসু রোডের একটি বহুতলের ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল অনিমেষ।শনিবার বিকেলে দাদা-দাদীর ফ্ল্যাটে খেলতে গিয়ে পরে নিজেদের ফ্ল্যাটে আর ফেরেনি।পরে বাড়ির লোকেরা জানতে পারেন, শিশুটি সকালে তার মামাতো ভাইকে জানিয়েছিল, পোকেমনকে ধরতে সে মুম্বাই যাবে। সেই কথার সূত্র ধরেই হাওড়া স্টেশনে যান সরিতাদেবীরা। সরিতাদেবীর প্রতিবেশী সন্দীপ গনেরিবাল জানান, আরপিএফকে অনিমেষের ছবি দেখাতে তারা জানায়, এমনই দেখতে একটি শিশুকে কিছু ক্ষণ আগে উদ্ধার করা হয়েছে। এর পরে হাওড়া থানার পুলিশও স্টেশনে যায় এবং অনিমেষকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার হাতে পোকেমন স্টিকার তো ছিলই, খাবারের প্যাকেটের ভিতরে মুম্বাই যাওয়ার বিজ্ঞাপনও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানায়।

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০